ঢাকা শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বাংলাঃ ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আরবীঃ ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  1. Lead 1
  2. Lead 2
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. ইসলামিক
  9. কবিতা
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. চট্টগ্রাম
  14. ছড়া
  15. জাতীয়

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে: প্রধানমন্ত্রী

রাব্বানী হাওলাদার
প্রকাশিত: ২:২৯ এ.এম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩
Link Copied!

ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে দুটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি দুটির একটি হলো- ‘ইম্প্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোগ্রাম’ বিষয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ফ্রান্সের ফ্রান্স ডেভেলপমেন্ট সংস্থার (এএফডি) মধ্যে ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি অ্যাগ্রিমেন্ট এবং আরেকটি হচ্ছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং বঙ্গবন্ধু-২ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম সম্পর্কিত ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস এসএএসের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) চুক্তি। ইআরডি সচিব শরিফা খান ও এজেন্স ফ্রান্সেইস দো ডেভেলপমেন্ট (এএফডি)’র কান্ট্রি ডিরেক্টর বোনুই শসেত নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রথম চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। দ্বিতীয় চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন বিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও স্পেস সিস্টেম, এয়ারবাসের সেলস ও মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিফেন ভেসভাল। দেশের প্রথম জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, ফরাসি কোম্পানি থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের নির্মিত। এটি ২০১৮ সালের ১২ই মে উৎক্ষেপণ করা হয়।

ওদিকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। শেখ হাসিনা বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। ফ্রান্স বাংলাদেশের সার্বভৌম নীতি, স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আলোচনা হয়েছে। আমরা উভয়েই আশা করি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে এই নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, উন্নয়ন ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন সম্পর্কের ভিত রচিত হয়। ফ্রান্স সরকার জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দর্শনীয় ও ধারাবাহিক অগ্রগতিতে ফরাসি সরকারের আস্থা ও প্রশংসা ব্যক্ত হয়েছে। জিএসপি প্লাস প্রকল্পের অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশের জন্য অব্যাহত রেখে ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের নেতৃত্বে ফ্রান্স সরকার ও ফ্রান্সের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির লক্ষ্যে আমরা বিশদ আলোচনা করেছি এবং ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ফ্রান্স আমাদের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। দেশটি বাংলাদেশের কৌশলগত নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণে উন্নত ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় এবং দায়িত্বশীল আবাসিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ফ্রান্সের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই এবং একটি টেকসই তহবিল গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের আহ্বানের প্রশংসা করি। এ ছাড়া বৈঠকে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বিনিময় নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার রাতে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় আসেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাতে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ম্যাক্রনের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। নৈশভোজ শুরুর আগে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গতকাল দিনের শুরুতে ম্যাক্রন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে পরিদর্শন বইয়ে তিনি লেখেন, আমি শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যিনি তার জাতির স্বাধীনতা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

পরিদর্শন বইয়ে তিনি আরও লেখেন, তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকে আরও যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে ফ্রান্সের জনগণের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করছি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা এবং তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

তুরাগ নদী ভ্রমণ, সংগীত উপভোগ: এদিকে রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ধানমণ্ডিতে সংগীতশিল্পী, গীতিকার রাহুল আনন্দের বাসায় যান। প্রাণ ও প্রকৃতির শিল্পী ‘জলের গান’ এর প্রতিষ্ঠাতা রাহুল আনন্দ তাকে শুনিয়েছেন গান। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তার হাতে তৈরি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে। রাহুলের স্টুডিওতে বসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট গান শুনেছেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রসঙ্গে জেনেছেন। সেই সঙ্গে উপহার দিয়েছেন ও পেয়েছেন। রাহুল ফরাসি প্রেসিডেন্টকে একতারা উপহার দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন রাহুলকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন কলম।

রাহুল আনন্দের বাসায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অবস্থানকালে বাংলার লোক-ঐতিহ্যের আবহে ডুবে ছিলেন ম্যাক্রন। তিনি যেকোনো দেশে সফরকালে স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করেন। এর অংশ হিসেবে ঢাকায় আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের তত্ত্বাবধানে রাহুল আনন্দের স্টুডিও পরিদর্শন করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তার সঙ্গে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া গ্রোজ্যঁ। ইমানুয়েল ম্যাক্রন নিজেও একজন শিল্পী। পিয়ানো বাজানোতে তার দক্ষতা রয়েছে। গতকাল ঢাকা ছাড়ার আগে তুরাগ নদীতে নৌকা ভ্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তুরাগ তীরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তিনি তার সম্মানে আয়োজিত নৌকা বাইচও উপভোগ করেন। গতকাল দুপুরের পর ঢাকা ত্যাগ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন।