ঢাকা রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বাংলাঃ ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আরবীঃ ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  1. Lead 1
  2. Lead 2
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. ইসলামিক
  9. কবিতা
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. চট্টগ্রাম
  14. ছড়া
  15. জাতীয়

ঝালকাঠিতে এমপি আমুর নাম ভাংঙিয়ে চলা সৈয়দ মিলন আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে

কলমের কণ্ঠস্বর ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৩ পি.এম, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
Link Copied!

ঝালকাঠির এক সময়ের মূর্তিমান আতঙ্ক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মিলনের বিরুদ্ধে এলাকায় নারীর শ্লীলতাহানী, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক কারবারির অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই।

আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু এমপি’র নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, মাদক কারবারীসহ এলাকায় একের পর এক নানা অপকর্ম কায়েম করছে ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা।

স্থানীয়ভাবে মিলনের কোনো রাজনৈতিক জনবল না থাকায় নিজেকে জাহির করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু ফেসবুক আইডি। মিলনের সেকেন্ড ইন কমান্ড তরিকুল ইসলাম অপু ফকিরকে দিয়ে সম্প্রতী “ঝালকাঠি নিউজ” নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলে মিলন তার নিজের সাফাই প্রচার করছেন।

এছাড়া মিলনের মাদক আনা নেয়ার কাজের কয়য়েকজন কর্মচারী তাদের ফেসবুকে মিথ্যে তথ্য প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলছে বলে শহরে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।

জনশ্রুতি রয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সন পর্যন্ত দুইবছর মেয়াদে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় সৈয়দ মিলন ছিলো ঝালকাঠির মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। সেই সময় থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু’র নাম বিক্রি করে বিভিন্ন দফতরে ঠিকাদারী কাজ করে শুণ্য থেকে কোটিপতি বনে গেছে সৈয়দ মিলন।

ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি থাকাকালীন পৌর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করায় গ্রেফতার হয়েছিলো মিলন। সভাপতি পদের মেয়াদ শেষে কমিটি পরিবর্তন হওয়ার পরে এমপি আমুর নাম বিক্রি করে সরকারের বিভিন্ন দফতরে ঠিকাদারী কাজের জন্য প্রভাব বিস্তার করারও অভিযোগ কয়েছে সৈয়দ মিলনের বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বরিশাল নতুন বাজার এলাকার অরুন নামের এক ঠিকাদার ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) কাজের জন্য আসলে মিলনের নির্দেশে তাকে তুলি নিয়ে মিলনের মধ্য চাদকাঠির বাড়িতে আটকে নির্যাতন করেছিলো। তাদের অপরাধ ছিল এলজিইডি’র কাজ পাওয়ার পরে তারা মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তারা চেকবইয়ের ফাঁকা দুটি পাতায় সই দিয়ে মুক্তি পান।

স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে মারধর ও চাঁদা দাবির মামলায় ঐ বছরের ১৩ জানুয়ারি ডাক্তার পট্টির বাসা থেকে সৈয়দ মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। তখন মিলনের শয়ন কক্ষ থেকে ১২টি ধারালো রামদা ও চারটি জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ২০২০ সনের ৮ মার্চ ডেইলী ষ্টার পত্রিকায় “ছাত্রলীগের লজ্জা সাবেক নেতা মিলনের হাতুড়ি বাহিনী” শিরোনামে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো। একে একে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিলনের কু-কর্ম তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ হয়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয় ঝালকাঠি ১ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু। গ্রেফতারের পর টানা দশ মাস কারাগারে কাটাতে হয়েছে মিলনকে।

জেল থেকে বের হয়ে নেতার (আমু) কাছে মাফ চেয়ে রাজনীতির ময়দানে আরেকটি সুযোগ চায় মিলন। নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবী করে নতুন মিশনে নেমে পরেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এর সাথে সেলফি তুলে ছাড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

এতেই ক্ষ্যন্ত হয়নি মিলন। নিজেকে যুগ্ম আহবায়ক লিখে জেলা যুবলীগের কমিটি বানিয়ে সেটাও ছড়িয়ে দেয় ফেসবুকে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ প্রচার সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় মিলনের ছড়ানো কমিটি সঠিক নয়। এরপরই ভুয়া কমিটির বিষয়ে মিলনকে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছি:ছি: দিতে থাকে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঝালকাঠি শহরের ডাক্তার পট্টি সড়কে মৈয়দ টাওয়ার নামে মিলনের বহুতল অট্টালিকার পাশে এক অসহায় একটি পরিবারের জমিসহ বসতঘর দথল করে নেয়। রাতের আধারে পাকা প্রাচীর নির্মান করে ঐ পরিবারটিসহ দু’টি পরিবারের চলাচলের পথটিও বন্ধ করে দেয়।

রাতের আধারে জমি দখলের ঘটনায় ভুক্তভুগি পরিবারটি ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। এর পরেই পুলিশ সুপারের নির্দেশে সদর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে দেয়ালটি ভেঙে দিয়ে ঐ অসহায় দুই পরিবার চলাচলের পথ উম্মুক্ত করে দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মঞ্জু বেগম গনমাধ্যমকে জানান, ‘ঝালকাঠি মৌজায় এসএ ১২৪ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক মৃত হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন প্রায় পাঁচ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। সেখানে সৈয়দ টাওয়ার নামে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন মিলন। ভবনের পেছনে আমরা দুই পরিবার বসবাস করি আমাদের চলাচলের জন্য চার ফুট একটি সড়ক রয়েছে। সেই সড়কটি রাতের আঁধারে হাদিসুর রহমান মিলনের লোকজন দেওয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি আমরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

মঞ্জু বেগমের মতো আরো ভুক্তকুগীরা জানান মিলনের জবর দখল এবং মানুষকে অহেতুক হয়রানীর কথা। তাকে কিছু বললেই সে (মিলন) উত্তর দেয় ‘এমপি আমির হোসেন আমু আমাকে বেশি পছন্দ করে তাই।প্রশাসন আমাকে গুরুত্ব দেয়। আমার বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করে লাভ নেই।’

সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক সাজুর বসতঘরে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করছে সৈয়দ মিলন।

বর্তমানে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা মিলনের লাগাম এখনই টানা না গেলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে এর নেতিবাচক প্রভাব পরবে বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী অনেকে।

এবিষয় সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন বলেন, ‘আমি স্বরযন্ত্রের শ্বিকার, এমপি আমুভাই আমাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে, এটা অনেকের চোখে সুল। তাই দলীয় প্রতিপক্ষরাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়।