ঢাকা শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
বাংলাঃ ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আরবীঃ ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
  1. Lead 1
  2. Lead 2
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. ইসলামিক
  9. কবিতা
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. চট্টগ্রাম
  14. ছড়া
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিক লাঞ্ছনা: বগুড়ার শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্য ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:২৫ এ.এম, ১০ জুলাই ২০২৪
Link Copied!

বগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) সকালে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) হাসেম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের এসআই চন্দন ও নারী পুলিশ কনস্টেবল হাবিবা।

তথ্যমতে, সোমবার ৮ জুলাই দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে থানা চত্বরে স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাওন ব্যক্তিগত কাজে গেলে এস আই চন্দনের হাতে মারধরের শিকার হন।

জানা যায়, ঐদিন সকাল ১১টার দিকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার শেরপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার ব্যক্তিগত কাজে শেরপুর হাইওয়ে থানায় যান। মোটরসাইকেল নিয়ে থানার গেটে যাওয়ার সময় দায়িত্বরত নারী পুলিশ কনস্টেবল হাবিবা তাকে থামার জন্য ইশারা করেন। তিনি বুঝতে না পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে সরাসরি থানা ভবনে ঢুকতে গেলে নারী পুলিশ কনস্টেবল হাবিবা বলেন, ‘আপনি পাগল নাকি? ইশারা বোঝেন না?’। একথা শুনে তিনি এগিয়ে এসে বলেন, ‘এভাবে বলছেন কেন? আমি যে পাগল এটা প্রমাণ করতে পারবেন?’ একথা বলায় নারী পুলিশ কনস্টেবল হাবিবা রেগে গিয়ে তার সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তার উচ্চবাচ্যে লোকজন এগিয়ে আসেন। এসময় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাওনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর সাংবাদিক জাহাঙ্গীর ইসলাম তার কাজ সেরে চলে যান। সাংবাদিক শাওন তার কাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এর কিছুক্ষণ পর নারী পুলিশ কনস্টেবল হাবিবা থানা ভবনের ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষন পর বের হয়ে আসেন। এর একটু পরই এস আই চন্দন এসে সাংবাদিক শাওনের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে তাকে আটক করার চেষ্টা করে। পরে সাংবাদিক শাওন শেখান হতে সটকে পড়লে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আটক করে রাখা হয়।

ঘটনাটি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হলে ২০-২৫ জন সাংবাদিক শেরপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে অবস্থান নিয়ে হাইওয়ে ইনচার্জ (ওসি) হাসেমের কাছে বিচার দাবী করেন। পরে, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহমেদ হাশমী এসে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত জুন মাসে আনন্দ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ এসআই চন্দনের হাতে লাঞ্ছিত হন। বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ বলেন, গত মাসে এক আত্মীয়র চেকআপ শেষে বগুড়া থেকে শেরপুরে ফিরছিলাম। অপারেশনের রোগী হওয়ায় তাকে পাবলিক বাসে না নিয়ে থ্রী হুইলার সিএনজিতে আনা হচ্ছিল। সিএনজি শেরপুর হাইওয়ে থানার কাছে আসলে কনস্টেবল মেহেদী সিনএজিকে থামানোর সিগন্যাল দেয়। সিএনজি থামলে কনস্টেবল মেহেদী ড্রাইভারকে গাড়ি থানার ভেতর নিতে বলে।

এ সময় আমি আমার পরিচয় দিয়ে বলি, গাড়ী থানায় নিয়েননা। গাড়ীতে অসুস্থ রোগী আছে। রোগী নিয়ে দ্রুত বাড়িতে যেতে হবে। তখন কনস্টেবল মেহেদী আমাকে বলেন, ‘ঐ মিয়া সাংবাদিক বলে দেশ কিনে নিয়েছেন নাকি? আপনি যা বলবেন তাই শুনতে হবে? চলেন, আমার অফিসারের সাথে কথা বলেন!’ এরপর গাড়ি নিয়ে আমাকে থানার ভেতর যেতে বাধ্য করে। পরে, এসআই চন্দন তার সামনে থাকা চেয়ার পা দিয়ে ঠেলে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলতে থাকে কিরে, মেহেদী! এসব ভূয়া সাংবাদিক ধরার জন্যই তো ডিজিটাল আইন তাই না?

এ সময় কনস্টেবল মেহেদী চন্দনের ইশারায় বলেন, আপনার আইডি কার্ড দেখান। এসআই চন্দন বলেন, আইডি কার্ড আছে তো? নাকি, ভূয়া সাংবাদিক? পরে, হাইওয়ে ইনচার্জের সহায়তায় গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। বারবার এমন গর্হিত আচরণ করায় অবশেষে এই দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়।