প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর দেশটির শেয়ারবাজার চাঙা হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোতে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে। ডাও জোন্স সূচকটি ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর একদিনে সর্বোচ্চ উত্থানের রেকর্ড গড়েছে।
বুধবার ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে ৫৩ হাজার ৩৫৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সূচকটি ৫৩ হাজারের ঘর অতিক্রম করেছে।
এদিন এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৬৮৮ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নাসডাক কম্পোজিট সূচক বেড়ে ৩৬৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ হয়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এই পরিবর্তনের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভক্ত সরকারব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয়ী হয়েছেন। টেক্সাসে রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন জিনা হিনোজোসা। এর মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে তিন দশকের বেশি সময়ের রিপাবলিকান আধিপত্যের অবসান ঘটেছে।
ট্রাম্প নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন-পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের বাণিজ্য, রাজস্ব ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ওয়াশিংটনের ওপর যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চাপ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় জ্বালানি তেলের বাজারেও বড় দরপতন ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৪ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) নির্মাণ ও পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কঠোর নজরদারি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক হিসেবে পরিচিত ‘ওয়াল স্ট্রিট ফিয়ার গেজ’ বা সিবিওই ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিআইএক্স) ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ১৬ দশমিক ৬১ পয়েন্টে নেমেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন