প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ১০:৩১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৮:১৯ পি.এম
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী শীতলা মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম। জমিটি বৈধ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছেন এবং আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে নিজের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমি থেকে ফসল লুট, হুমকি-ধামকি ও অপপ্রচারের অভিযোগও তুলেছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি কুচক্রী মহল তাকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
শফিকুল ইসলামের দাবি, বিএস ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৫৯২ নম্বর দাগের জমি তিনি সমীর রঞ্জন আইচের কাছ থেকে বৈধ দলিলমূলে ক্রয় করেছেন। পরে পিরোজপুরের বিজ্ঞ আদালত থেকে ডিক্রি লাভ করে আইন অনুযায়ী নিজের নামে জমি রেকর্ডভুক্ত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার ভোগদখলীয় জমি থেকে জোরপূর্বক ফসল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি পিরোজপুরের আদালতে এমপি ৩৩৯/২৫ ও সি আর ৩৮/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ টুটুল আইচের নেতৃত্বে জমিতে শীতলা মন্দিরের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, সমুদয়কাঠী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রীশ্রী শীতলা মায়ের মন্দির কমিটির দাবি, মন্দিরের ব্যবহার ও ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য ১৯৬২ সালে ৪২ শতাংশ জমি দান করা হয়। দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে জমিটি মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের দাবি, সরকারি সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি ১৩০ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্দির কমিটির অভিযোগ, ২০১৬ সালে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার নেছারাবাদ সহকারী জজ আদালতে জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার আরজিতে সর্বশেষ বিএস খতিয়ানের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। ১৯৯৯ সালের ২৪ মার্চ শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই সিদ্দিকুর রহমান দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলেও ওই দলিলের সীমানা ও দাগে মন্দিরের ৪২ শতাংশ জমির উল্লেখ ছিল না বলে দাবি করেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, প্রকৃত মালিক ও মন্দির কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত না করেই একতরফা ডিক্রি নেওয়া হয়েছে।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক টুটুল আইচের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শফিকুল ইসলাম জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদ শুরু করেন। তার নামজারি রেকর্ডে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও তিনি পুরো ৪২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করছেন বলে দাবি করেন টুটুল আইচ। চলতি বছর জমিতে পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং জমিটি শীতলা মায়ের মন্দিরের বলে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। প্রকৃত রেকর্ড ও কাগজপত্র দেখাতে পারলে তারা জমি ছেড়ে দেবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, জমি নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্দির কমিটি।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সমুদয়কাঠী বাজারে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মন্দির কমিটি ও এলাকাবাসী। ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মন্দির কমিটির সভাপতি ও জমির শরিকদের পক্ষে মনোজ বিশ্বাস। এ সময় জমি উদ্ধারে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই জমির দলিল, খতিয়ান, আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে আইনি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চাওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন