প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করেছে মো. সাহাবুদ্দিন এবং আজ রোববার (২৬ জুলাই) তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করছেন।
এরপর তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে তাঁর নিজ বাসভবনে উঠবেন। চিকিৎসার জন্য শিগগিরই তিনি বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সাবেক রাষ্ট্রপতি একটি গণমাধ্যমকে এসব কথাগুলি জানান।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে তিনি উল্লেখ করেন। সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি যাচ্ছেন।
এর আগে শনিবার শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তিনি। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এই কারণে মাঝে মাঝে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
দলটির সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকদিন আগে থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ পান।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেই হিসেবে বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বগুড়ার শেরপুরে শনিবার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন–বিএনপির দলীয় নাকি বাইরের কেউ, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে। সংবিধান ও প্রয়োজনীয় আইন মেনে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একইদিন রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি আরো বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিচারের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তুলেছে এবং এই বিষয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা হবে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আরেক অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন, তবে তার আইনগত অধিকার রয়েছে। কেন পদত্যাগ করেছেন, কী ঘটেছে এসব তথ্য আমার জানা নেই। পদত্যাগে রাজনীতি জড়িত রয়েছে বলে আমি অতটা মনে করি না।’
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবারে অফিস করবেন বঙ্গভবনে এবং তিনি স্পিকারের বাসভবনে থাকবেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে উঠছেন না, তিনি তার স্পিকারের বাসভবনেই থাকবেন কিন্তু অফিস করবেন বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই গত শুক্রবার জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে স্পিকারের বাসভবন এবং আশেপাশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন