প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তরপ্রদেশের লখনৌতে একটি হিন্দু জাগরণ অনুষ্ঠানের সময় 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় ১২ বছর বয়সী মুসলিম কিশোর এবং তার চাচার ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। ২১ সেপ্টেম্বর রাতে লখনৌর চক এলাকার থানাধীন বড়ি কালী মন্দিরের নিকটবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই এলাকার ১,০০০-১,২০০টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে একমাত্র মুসলিম পরিবার হিসেবে বসবাস করে আসছে। ঘটনার রাতে ব্যবসায়ী মো. সুফিয়ান, যিনি ৩৩ বছর বয়সী, এবং তার ভাতিজা উভয়ই মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হন। সুফিয়ানের মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে।
সুফিয়ান জানান, ঘটনার রাতে তার ১২ বছরের ভাতিজা ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র (চা-পাতা ও চিনি) কিনতে বের হয়। পথে কিছু পরিচিত হিন্দু যুবক তাকে থামিয়ে প্রথমে সিগারেট আনতে বলে, কিন্তু সে রাজি না হলে তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়। পুনরায় অস্বীকার করার পর তারা তাকে মারধর করে এবং একটি লোহার বালা (কড়া) দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
কিশোরটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে পালিয়ে গেলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি উন্মত্ত জনতা তাদের বাড়ি এবং সংলগ্ন একটি মসজিদে পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। বারান্দায় থাকা সুফিয়ানের বোনও পাথরের আঘাতে আহত হন। খবর পেয়ে সুফিয়ান তড়িঘড়ি করে বাড়ি ফিরলে জনতা তাকে ঘিরে ধরে মাটিতে ফেলে লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।
সুফিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে চক থানা পুলিশ আশু, বিকাশ, আশিশ, আনন্দ ও মোহিত নামে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০০-৩০০ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর বিভিন্ন ধারায় (দাঙ্গা, আঘাত, অপরাধমূলক হুমকি ও হামলা) মামলা রুজু করেছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্তদের বাঁচাতে শিথিল ও হালকা ধারা প্রয়োগ করেছে, অথচ এটি একটি স্পষ্ট পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা ছিল। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি, বরং আহত অবস্থায় সুফিয়ানকেই জবানবন্দি দিতে বারবার থানায় ডাকছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারটি জানায়, ওই এলাকায় বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে এতদিন তাদের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি তাদের পরিবার কর্তৃক পরিচালিত ১৯২০ সালের একটি পুরোনো মসজিদকে কেন্দ্র করে কিছু বহিরাগত দাবি তোলে যে এটি মন্দিরের জমিতে নির্মিত। সুফিয়ানের মতে, সেই পুরোনো ক্ষোভের জের ধরেও এমন হামলা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনায় গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করে সুফিয়ান বলেন, "শারীরিক আঘাতের চেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে এটা দেখে যে, যাদের সঙ্গে বহু বছর ধরে একসঙ্গে বড় হয়েছি, তারাই রাতারাতি শত্রু হয়ে গেল। হামলায় সময় পরিচিত প্রতিবেশী দের কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।"
২৪ সেপ্টেম্বর ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’ (এআইএমআইএম)-এর একটি প্রতিনিধিদল ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এবং ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি ও পরিবারটিকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানায়। পেশায় আগরবাতি ও আতর বিক্রেতা সুফিয়ান বর্তমানে শারীরিক আঘাত ও আতঙ্কের কারণে কাজে যেতে পারছেন না, ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার জীবিকাও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন