প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিভিত্তিক আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চিনি শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ ও সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সরকারের ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারের জমিতে উন্নত জাতের আখের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বৃক্ষরোপণ ও মাড়াই মৌসুমের আখ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএসএফআইসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি চিনি কারখানায় ১ হাজার করে মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আখ চাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ কার্বন শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ফসল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় জমিতে অবস্থান করায় আখ মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।
তিনি বলেন, আখের বিভিন্ন উপজাত, বিশেষ করে ছোবড়া ও চিটাগুড় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে আখ চাষ চিনি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়, শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চরাঞ্চল ও সরকারি বনভূমিতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি বন্যা ও খরার মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আখের সঙ্গে সাথী ফসল চাষের সুযোগ থাকায় একই জমি থেকে কৃষকের বাড়তি আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি চিনি শিল্পকে কেন্দ্র করে আখ চাষ সম্প্রসারিত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের উদ্যোগও জরুরি। শিল্পকারখানায় বৃক্ষরোপণ এবং কান্তা কৃষি খামারে আখ রোপণের মতো কর্মসূচি দেশের সবুজায়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন