প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন—এটাই সবার স্বাভাবিক প্রত্যাশা। তবে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। সংস্থাটি জানায়, এসব ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য।
আজ ১৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস’। ২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’ এবং স্লোগান ‘জীবনের জন্য নিরাপদ সেবা’। অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ চিকিৎসা এবং জীবনভর নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার ওপর এবারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসা, পরীক্ষা, ওষুধ সেবন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগও বেশি হয়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, দীর্ঘ ও জটিল চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ ব্যবহার, সংক্রমণ, চিকিৎসার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে বাধার কারণে রোগী ক্ষতির শিকার হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশই অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোগী সুরক্ষার ঝুঁকি হাসপাতালের শয্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক ও বহির্বিভাগের চিকিৎসাতেও ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এসব ব্যবস্থায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
ওষুধ ব্যবহারে ভুল, রোগ নির্ণয়ে ভুল, অনিরাপদ অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে সংক্রমণ, রোগীর পরিচয় শনাক্তকরণে ভুল এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রোগী সুরক্ষার প্রধান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ চিকিৎসার বোঝা আরও বেশি। শুধু হাসপাতালেই এসব দেশে বছরে আনুমানিক ১৩ কোটি ৪০ লাখ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। রোগী সুরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও এসব দেশে ঘটে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
রোগী সুরক্ষা শুধু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানের সঙ্গে জড়িত। নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ, রোগীর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং চিকিৎসাপ্রক্রিয়ায় রোগী ও স্বজনকে সম্পৃক্ত করা—এসব ব্যবস্থা জোরদার করলে চিকিৎসাজনিত ক্ষতি কমানো সম্ভব।
চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপদ চিকিৎসা পাওয়াও রোগীর অধিকার। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় পুরো চিকিৎসাযাত্রার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন