প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ৬০ জন অর্থোডক্স খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন। হামলার ঘটনা ঘটে ২০ ও ২৪ অক্টোবর। ২০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া, ২০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই তথ্যগুলো জানিয়ে দিয়েছে ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের কর্মকর্তারা।
চার্চটির পবিত্র সিনড সোমবার এক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া চরম নিষ্ঠুরতা ও দুর্ভোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিনড বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ড মানুষের জীবন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
চার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মের্তি জেলার আঙ্গাদা কেবেলের গোরার সিলিঙ্গো এলাকায় ১৪ জনকে হত্যা করা হয়। এর চার দিন পর ২৪ অক্টোবর শিরকা জেলার তেরেতা, চোলে ও বিরবো গ্রামে আরও ৪৬ জন নিহত হন। দুটি জেলাই মধ্য ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলের আরসি জোনে অবস্থিত।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে চার্চের পবিত্র সিনড। তারা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা জোরদার করার এবং হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ নিতে।
ওরোমিয়া আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় এক কর্মকর্তা হামলার জন্য নতুন গঠিত একটি বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই জোটে ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) রয়েছে। তবে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ এর আগেও অস্বীকার করেছে ওএলএ।
ওরোমিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা
ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক রাজ্য ওরোমিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা চলছে। প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। সেখানে বছরের পর বছর ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে সরকারি বাহিনী।
গত জুলাইয়ে ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ সাল থেকে চলতি বছরের ১ জুন পর্যন্ত পূর্ব আরসির বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় অন্তত ৪৩২ জন বেসামরিক নাগরিক ও স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে চার্চের পবিত্র সিনড। নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সোমবার বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা অর্থোডক্স চার্চ ও মঠগুলোকে মঙ্গলবার ধর্মীয় উপাসনা শেষে একই ধরনের প্রার্থনা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে চার্চ। তারা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যাতে অনুসারীরা ভয় ছাড়াই বসবাস ও ধর্মীয় উপাসনা করতে পারেন।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন