প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূর্ব এশীয় অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার গ্রুশকো সামরিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্পর্কে কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিষয়টি এখন আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তাদের বর্তমান কার্যক্রম ইঙ্গিত করছে যে তারা সরাসরি যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে, তিনি জানান যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গ্রুশকো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো সেখানে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তরের এই অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি হাইব্রিড যুদ্ধ শুরু হলেও, পশ্চিমারা সেখানে কখনোই সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হবে না।
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিয়েভ সরকার সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা নিতে চায়, যাতে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই ধরনের সাময়িক সমাধান কোনো কার্যকরী ফল দেবে না। অন্যদিকে, স্থগিত হওয়া শস্য চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, রাশিয়ার খাদ্য ও সার বিশ্ববাজারে সরবরাহের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কখনোই বাস্তবায়ন করা হয়নি। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা নীতিরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা কার্যত এই চুক্তিটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।
বাল্টিক সাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গ্রুশকো জানান, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই অঞ্চলটি এখন সামরিক সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে যেকোনো মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত সামরিক দুর্ঘটনা ঘটার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
জার্মানির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে গ্রুশকো হুঁশিয়ারি দেন যে, বোনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তের জবাবে রাশিয়া খুব শিগগিরই নিজস্ব উপায়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি জার্মানিকে কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন।
অবশ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে গ্রুশকো জানান, এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে উত্তর সমুদ্র পথ দিয়ে কনটেইনার পরিবহন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে এই রুট ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ জ্যামিতিক হারে বাড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন