প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও জানান, সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হচ্ছে। ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বাণী প্রদান করেছেন। তিনি বাণীতে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল এবং উৎসবের আনন্দঘন আবহ প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন তার ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগায়। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে মিশে আছে চিরায়ত বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এই উৎসবে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন।
মানুষে-মানুষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। রাষ্ট্রপতি কামনা করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সত্য-সুন্দরের আলোকে ভাস্বর হয়ে উঠুক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।
তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে, স্বাধীন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে এবং মুক্তির পথ দেখায়। রাষ্ট্রপতি সকলকে আহ্বান জানান, যার-যার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা উচিত এবং মানবতার কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত। ধর্ম, বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তার নিশ্চয়তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং আমাদের সবার।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ুক। রাষ্ট্রপতি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক- এটাই তার একান্ত প্রত্যাশা।
তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন