প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্কের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকেরা তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে চালু রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের ইচ্ছার কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চেসির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার তথ্য প্রকাশ করেন ছাত্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, চিকিৎসকেরা আর আশার কোনো খবর দিতে পারছেন না। অলৌকিক কিছু না ঘটলে চেসির ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। গত দুই দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চেসির সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে চেসির মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। এর ফলে মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে ভেতরে চাপ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
রবিউল আরো জানান, ভেন্টিলেটরের সাহায্যে চেসির শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা হচ্ছে। এই সহায়তার মাধ্যমে তার হৃদযন্ত্রসহ শরীরের অন্যান্য কার্যক্রম সচল রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এমন অবস্থায় কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাগমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চেসি ত্রিপুরা গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
চেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে বাবা-মায়ের ইচ্ছায় লাইফ সাপোর্টে রেখে তার শারীরিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন