প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ভেতরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চীনা সেনাবাহিনী ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম।
অন্যদিকে, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, সীমান্তে চীনের কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তার বিশ্বাস নেই।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বসিরাম সিরাম অভিযোগ করেন যে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বিভিন্ন স্থানে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতিতে সীমান্তের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
সিরাম জানান, ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছে। তারা ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় গিয়েছিল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
সিরামের দাবি, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়েছে এবং পাহাড়ের উঁচু এলাকাগুলোতে তাদের অবস্থান রয়েছে। তিনি বলেন, “চীনা সেনারা ইতোমধ্যে ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চলে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা অবস্থান করছে। পাহাড়ের চূড়ায় তাদের দেখা যায়, আর আমরা রয়েছি নিচে।”
এর আগে, গত জুনে নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামের একটি স্থানীয় সংগঠন অভিযোগ করেছিল যে, তাকসিংয়ের কাছে চীনা সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টির একটি প্রতিনিধিদলও দাবি করেছে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় টহল দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু চীনের ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের অভিযোগ নাকচ করলেও, সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে সিরাম বলেন, সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতা না ঘটলে কেন স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এমন অভিযোগ তুলছেন? এসব অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, আসাফিলাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন