প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ফ্ল্যাটের বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। এই ফ্ল্যাটের মূল্য দেড় কোটি পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৭ কোটি টাকার সমান। অর্থ পাচারের সন্দেহে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পরিচালিত তদন্তের অংশ হিসেবে এই আদেশটি দেওয়া হয়েছে। এই তদন্তটি সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার পরিবারের বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের বিষয়ে চলমান বৃহত্তর অনুসন্ধানের অংশ।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য অর্থের উৎস সন্তোষজনকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হননি। এনসিএর অভিযোগ, সম্পদটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয়পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আদালত মনে করে, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে দাবি করার জন্য যথেষ্ট যুক্তিসংগত ভিত্তি রয়েছে। তবে আনিসুজ্জামান বেআইনি কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে তার আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরোধিতা করেননি।
হাইকোর্টের বিচারপতি ক্যারেন স্টেইন মন্তব্য করেন যে, ফ্ল্যাটটি অবৈধ অর্থের সম্পদ হওয়ার বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ভিত্তি রয়েছে। এই কারণে তিনি সম্পত্তিটি বিক্রি বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। একই সঙ্গে বাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত পৃথক আইনি কার্যক্রম চালানোর সুযোগও তিনি রাখেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ (২৯৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তির মালিকানা গড়ে তোলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ পান এনসিএ। একই সঙ্গে তার ও সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে আদালতের নির্দেশ নেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন