প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিটি উদ্যোগই থমকে গেছে। বইটির নাম ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ এবং এতে এসব ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথমবারের মতো ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি প্রস্তাব দেন যে, নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর গোলাম আযম যেন একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। যদিও নীতিগতভাবে প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন, বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গোলাম আযম সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রাজ্জাকের মতে, এটি ছিল নিতান্তই দায়সারা।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে নেতারা এক বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন, যা রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাজ্জাককে জানান, তার ধারণা, এই পরিবর্তনটি নিজামী করেছিলেন কোনো প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন যে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না এবং ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন যে, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।
২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একটি খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত করা হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।
রাজ্জাকের মূল্যায়ন হলো, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার মতে, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন