প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মহানগরীর পলাশপুর, রসুলপুর, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি ও বালুর মাঠ এবং স্টেডিয়াম কলোনি এলাকায় মাদক বেচাকেনা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশাল নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত সুমন হাওলাদার ওরফে মান্না সুমন এবং তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে ঘিরে মাদক কারবারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে অতীতে তাদের মাদক, অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ আটক হলেও। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একাধিক অভিযানে আটক, জব্দ হয়েছে মাদক ও নগদ অর্থ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানাধীন মোহাম্মদপুর এলাকার নিজ বসতঘর থেকে মান্না সুমন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে আটক করা হয়। ওই সময় তাদের আস্তানা থেকে বিভিন্ন মালামাল ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে বিভিন্ন অভিযানে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, দেশীয় মদ ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও রয়েছে। মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ টাকা উদ্ধারের কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও স্থানীয় কাউনিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার কয়েকটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও মাদক কারবারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
আস্তানা বদলে ‘নতুন কৌশল’?
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে মান্না সুমন ও শিল্পী বেগম মোহাম্মদপুর এলাকার আগের অবস্থান ছেড়ে পোর্ট রোডের বালুরঘাট থেকে নৌপথে রসুলপুরের অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকায় নতুন আস্তানা গড়ে তুলেছেন।
সূত্রগুলোর দাবি, দুর্গম ও নির্জন অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই এলাকায় অভিযান চালানোর আগেই তাদের কাছে অভিযানের খবর পৌঁছে যায়—এমন অভিযোগও রয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, মাদক সরবরাহে তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল নিয়েছেন। অনুসন্ধানী সূত্রের দাবি, ঢাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি উন্নতমানের ড্রোন সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্রেতারা আগের দিন সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদকের জন্য টাকা পরিশোধ করে অর্ডার দেন। এরপর ভোররাত থেকে সকাল হওয়ার আগের সময়ের মধ্যে ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে মাদকের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনির বালুর মাঠসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সেখানে থাকা তাদের প্রতিনিধিরা প্যাকেট গ্রহণ করে ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেন।
তবে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডি একটি সূত্রের কাছ থেকে পাও খবর। স্বাধীনভাবে ড্রোনটির অস্তিত্ব, ব্যবহার বা সরবরাহ কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তালাশ বিডির ড্রোনের ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
চেকপোস্ট ও সড়কে অভিযান, আড়ালে মাদক কারবার?
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান ও বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালিত হলেও অভিযোগ রয়েছে, নগরীর পরিচিত কয়েকটি মাদক স্পটে কারবার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশপুর, রসুলপুর, রাজ্জাক স্মৃতি কলোনি ও বালুর মাঠ এবং স্টেডিয়াম কলোনির বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির তৎপরতা রয়েছে। ফলে শুধু সড়ক ও চেকপোস্টকেন্দ্রিক অভিযান নয়, মাদকের মূল সরবরাহকারী ও অর্থের উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযানের খবর ফাঁসের অভিযোগ
এদিকে মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় অনেক সময় মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
আসাদু কর্মকর্তাদের মৃত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরেও নজরদারি বাড়ানোর।
বরিশালের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কার্যকর করতে হলে শুধু মাদক বিক্রেতাদের আটক করলেই হবে না; অভিযানের তথ্য কীভাবে বাইরে যাচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের ভেতরে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
‘
এ বিষয় নিয়ে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম বার, এর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অভিযোগগুলো জানানো হয় এবং তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশও চিন্তিত এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের কিছু সদস্যের মাধ্যমে অভিযানের খবর আগেই মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে শিগগিরই সফলতা আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
বরিশালে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এখন প্রয়োজন শুধু নিয়মিত অভিযান নয়; মাদকের সরবরাহের উৎস, অর্থের লেনদেন, কথিত নেটওয়ার্ক এবং অভিযানের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ—সবকিছুর সমন্বিত তদন্ত। বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও উন্মোচিত হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন