প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজবাড়ীর পাংশায় পাওনা টাকা আনতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে কাতার প্রবাসী আবদুর রহিম মোল্লা (৩০) হত্যার ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন মিয়া (৩৬) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস করা হয়েছে।
নিহত আবদুর রহিম পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম হোসেন মিয়া পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার সন্তান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মো. আনিসুর রহমান এ রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবদুর রহিমের ভাই আব্দুর রহমানকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন সাদ্দাম মিয়া, পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সী। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর টাকা ফেরতের জন্য পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনে রহিমকে ডেকে নেন তাঁরা। বিকেল ৫টার দিকে ক্যান্টিনের সামনে পৌঁছালে ছুরি দিয়ে রহিমের পেট ও ঊরুতে আঘাত করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে প্রথমে পাংশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ভোরে তিনি মারা যান। নিহত আবদুর রহিমের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. আশরাফুল আলম আশা জানান, বিচারক রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক (২) বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামি সাদ্দাম হোসেন মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর তিন আসামি পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন