প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের কারণে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের ও আমলাদের কঠোর বিচার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি উল্লেখ করেন, "আজ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক্সাম ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৩ লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী ঢাকায় এসেছিল এই পরীক্ষা দিতে। কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, কেউ বা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসেছে—নিজের মেরিট দিয়ে একটা জব পাওয়ার আশায়। অথচ, গতকাল রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছিল। আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০ টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকলো, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, 'প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল।' কী নির্মম রসিকতা!"
পরীক্ষা বাতিলের ফলে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর হয়রানি ও আর্থিক লোকসানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লেখেন, "এই ৩ লাখ তরুণ যে হ্যারাসমেন্ট আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেললেন, এর দায় কে নেবে? সরকার আবারো পরীক্ষার আয়োজন করতে ডাবল টাকা খরচ হবে। এই টাকা জনগণের টাকা। এই জবাবদিহিতা কে করবে? আজ এই ৩ লাখ স্টুডেন্ট চরম ফ্রাস্ট্রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কিছুদিন পর আবার ধার-দেনা করে ঢাকায় আসবে এক্সাম দিতে। কীসের আশায়? আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে?"
দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকা এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা লেখেন, "বছরের পর বছর কোনো সার্কুলার নাই, রিক্রুটমেন্ট নাই। আর যখন একটা এক্সাম হয়, সেখানে ভর করে প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট! আর কত? বেকারদের পকেটের টাকা আর চোখের জল নিয়ে যে সিন্ডিকেট হোলি খেলছে, তাদের পিঠের চামড়া কিন্তু ভুখা তরুণরা তুলে নিবে। ২০০+ পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিচ্ছিল প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থী। কী বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর দেশে এইটা ভাবেন! কর্মসংস্থান সৃষ্টির মিথ্যা ব্লাফিং শেষে সরকার গঠন করে কয়টা সরকারি পদও বিক্রি করে দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে! সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য থামাতে পারতেছে না!"
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করতে হবে। গ্রেফতার করে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।"
সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টের শেষে লেখেন, "আর, সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে। অবশ্য, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের প্রধান হইলে সিন্ডিকেট উৎপাদন হবে, উৎপাটন হবে না।"
উল্লেখ্য, ২০০টিরও বেশি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ পরীক্ষার্থীর এই নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত থাকলেও পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে প্রশ্নফাঁসের তথ্যের সত্যতা পেয়ে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি বাতিল ঘোষণা করে। এতে করে চরম দুর্ভোগ ও হতাশায় পড়েন সারাদেশ থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন