প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাছের শাখা-প্রশাখা, কাণ্ড এবং পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখিদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি গাছ যেন এক একটি বহুতল নীড়; উপরে থেকে নিচ পর্যন্ত কেবল পাখিরই সমাহার।তাদের আনাগোনা, ডাকাডাকি এবং ডানা ঝাপটানোর শব্দে নিস্তব্ধ প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি হয়েছে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কানাইপুকুরের বৃক্ষরাজি এই প্রাণের উপস্থিতি মেনে নিয়েছে। পাখিরা আবাস গড়ার পর, এখন জায়গাটির নাম পাখি কলোনি।কলোনির গাছগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় পাখিদের ব্যস্ত সংসার।
কোথাও পাশাপাশি বসে থাকা কয়েকটি পাখি, কোথাও বাসার ভেতর ছানা ঘিরে অভিভাবকদের ব্যস্ততা। কিছু পাখি গাছের উঁচু ডালে উঠে বিশাল ডানা মেলে ধরছে। সব মিলিয়ে কানাইপুকুর যেন মানুষের তৈরি কোনো জনপদ নয়, বরং পাখিদের নিজেদের গড়া একটি জীবন্ত নগরী।
এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা আসছেন।
মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় পাখিদের বিভিন্ন গতিময় মুহূর্ত বন্দি করছেন। তবে ছবি তোলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আয়োজনকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা।দর্শনার্থী ইমামা নুর বলেন, ‘এখানে ঢোকার পর মনে হয়, শহর-গ্রামের পরিচিত দৃশ্যের বাইরে অন্য একটি জগতে চলে এসেছি। চারপাশের সবুজের মধ্যে এত পাখির একসঙ্গে বসবাস সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। পাখিদের ডাক শুনলেই মনটা শান্ত হয়ে যায়। ফাহমিদা রোশনি নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘গাছের প্রতিটি ডালে যেন আলাদা একটি গল্প। কোথাও পাখির সংসার, কোথাও তাদের বিশ্রাম; আবার কোথাও উড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি। এমন দৃশ্য শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও বিষয়। জায়গাটি সংরক্ষণ করা গেলে এটি আরো পরিচিতি পাবে।’
রওশনারা রিফাহর ভাষ্য, ‘ছবিতে অনেক পাখি দেখা যায়, কিন্তু একসঙ্গে এত পাখিকে নিজেদের মতো করে থাকতে দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি। মনে হয় প্রকৃতি এখানে মানুষের জন্য নয়, পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নির্মাণ করেছে।’
পরিবেশকর্মী শাহজাহান আলী বলেন, ‘পাখিরা কোনো এলাকার সৌন্দর্যের অংশ হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কানাইপুকুরে পাখিদের এমন বড় আবাসস্থল গড়ে ওঠা আমাদের জন্য প্রকৃতির একটি মূল্যবান উপহার। এই আবাসস্থল টিকিয়ে রাখতে গাছপালা রক্ষা, পাখি শিকার বন্ধ এবং তাদের নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।’
কানাইপুকুর পাখি কলোনির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাখিরা বছরের পর বছর ধরে এখানে এসে নীড় তৈরি করছে। এখন জায়গাটি তাদের নিজেদের একটি নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই, মানুষের অসচেতনতার কারণে যেন পাখিদের এই আশ্রয় নষ্ট না হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন