প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুই দফায় কারিগরি জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। এতে টেন্ডারে অংশ নিতে পারছেন না ঠিকাদাররা। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ে নতুন করে চিকিৎসাসামগ্রী কেনা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, পরপর দুই দফায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। নিয়মিত সিভিল সার্জন শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে টেন্ডার আহ্বানের পরপরই অনলাইন প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দ্বিতীয় দফাতেও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে টেন্ডার সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী কেনা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাদারীপুরের ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন ফকির বলেন, “২৫ অক্টোবর দুপুরে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডারে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে ‘ক্যানসেলড’ লেখা দেখায়। ফলে টেন্ডারে অংশ নিতে পারিনি। দুই দফাতেই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, জেলা হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। এবার প্রায় ৯ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরপর দুই দফায় একই ধরনের সমস্যা কেন হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর পেছনে কারও স্বার্থ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, “হাসপাতালের টেন্ডার প্রক্রিয়া দুই দফায় আহ্বান করা হয়েছে। দুইবারই কারিগরি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এতে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় মালামাল কেনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মো. খলিলুজ্জামান বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারিগরি সমস্যা হয়েছে। নিয়মিত সিভিল সার্জন শরীফুল আবেদীন কমল গত ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছেন। তিনি কর্মস্থলে ফিরলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিয়মিত সিভিল সার্জন শরীফুল আবেদীন কমলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুই দফায় বিঘ্ন ঘটার পরও কেন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন