প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ভারতের গুজরাটের সুরাটের শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই আগুনের ফলে ১৪টি দোকান সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। এতে ২৪ কোটি রুপির কাপড় ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, পুলিশের তদন্তে একটি মারাত্মক প্রতিশোধের কাহিনী উন্মোচিত হয়েছে।
চাকরিচ্যুত এক হিসাবরক্ষক তার মালিকের প্রতি প্রতিশোধ নিতে পুরো মার্কেটটিকে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই হিসাবরক্ষকের দাবি, তার নিয়োগকর্তার কাছে ১০ হাজার রুপি বেতন বাকি ছিল। এই ১০ হাজার রুপির জন্যই সে ২৪ কোটি রুপির সম্পদকে ধ্বংস করেছে। তার জন্য সে খরচ করেছে মাত্র ১৫০ রুপির পেট্রল এবং দুটি ম্যাচের কাঠি।
মঙ্গলবার গুজরাটের সুরাটের পুলিশ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। যে অগ্নিকাণ্ডটিকে প্রথমে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা মনে করা হয়েছিল, তদন্তের পর তা একটি বড় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর সূত্র ধরে ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিনোদ পণ্ডিত সাভলে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলাটির রহস্য তখনই উন্মোচিত হয় যখন সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি ৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্যাম সঙ্গিনী টেক্সটাইল মার্কেটের একটি দোকানের বাইরে কাপড়ের পার্সেল থেকে আগুন ধরাচ্ছে। পুলিশ জানায়, এই আগুন পরবর্তীতে অন্তত ১৪টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাপড় পুড়িয়ে দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) করণরাজ বাঘেলা জানিয়েছেন, সাভলে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে প্রায় তিন মাস মার্কেটটির ৬৩৯ নম্বর দোকানে কর্মরত ছিল। অ্যাকাউন্টসের কাজ সঠিকভাবে না সামলাতে পারায় গত জুনে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সাভলের দাবি ছিল যে তার প্রাক্তন মালিকের কাছে ১০ হাজার রুপি পাওনা রয়েছে এবং সে মালিককে একটি শিক্ষা দিতে চেয়েছিল। সাভলে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও বোতলে করে কাছের একটি গ্রামের পেট্রল পাম্প থেকে ১৫০ টাকার পেট্রল কিনেছিল। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে সে মার্কেটে প্রবেশ করে। সাভলে পাঁচতলার সিঁড়ির কাছে লুকিয়ে থাকে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মার্কেট যখন জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন সে নিজের সাবেক কর্মস্থল সেই দোকানের দিকে যায়।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুখে সাদা কাপড় বাঁধা এবং কাঁধে একটি ব্যাগ ঝোলানো অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় পৌঁছায়। সে এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। ব্যাগ থেকে একটি পেট্রোল ভর্তি বোতল বের করে এবং দোকানের বাইরে রাখা কাপড়ের বাক্স ও পার্সেলের ওপর তা ঢেলে দেয়। দেশলাই কাঠি দিয়ে আগুন ধরানোর প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়; দ্বিতীয় চেষ্টায় কাপড়ে আগুন ধরে যায়।
ফুটেজে দেখা যায়, আগুনের শিখা ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে সে একবার পিছন ফিরে তাকায়।
বহু পরিমাণ কাপড় এবং প্যাকিং সামগ্রী থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি দোকানকে গ্রাস করে। পুলিশ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সারোলি এলাকার পুলিশ এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তের মার্কেটে প্রবেশ থেকে শুরু করে বের হওয়ার পথের একটি চিত্র দাঁড় করায়। এই ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা ডিন্ডোলির বিলিপত্র রেসিডেন্সির বাসিন্দা সাভলের সন্ধান পান।
পুলিশের মতে, ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এবং সাভলে যখন জানতে পারে যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তখন সে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয় এবং স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সুরাট ছেড়ে চলে যায়। প্রথমে সে রাজস্থানের খাতু শ্যাম মন্দিরে যায় এবং এরপর অযোধ্যায় যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, সাভলে সুরাটে ফিরে আসার পর ডিন্ডোলির ফ্লাওয়ার গার্ডেনের কাছ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
বাঘেলা জানান, সাভলে কীভাবে খোলা পেট্রল কিনেছিল এবং পেট্রল পাম্পটি নিয়মকানুন মেনে চলেছিল কি না তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে পাম্পটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চ বর্তমানে সাভলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সে একাই এই অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করেছিলেন নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন