প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বন্ধুদের মাঝে বসে আছেন, আশেপাশের সবাই মিলে গল্প করছে এবং আড্ডা দিচ্ছে। তবুও মনে হচ্ছে যে আপনি একা। কখনো কি এমন অনুভূতি আপনার হয়েছে? বিজ্ঞানের পরিভাষায়, এমন অবস্থাকে বলা হয় সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।
মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে, মানুষের একাকিত্বের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। প্রথমটি হলো Social Loneliness, যা আশেপাশে মানুষের অভাব নির্দেশ করে, এবং অপরটি হলো Emotional Loneliness, যা ভালোবাসার মানুষের অভাব বোঝায়। যখন কেউ মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে পারে না বা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া পায় না, তখন তার মধ্যে Emotional Loneliness তৈরি হয়।
মূলত, যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি এবং চলতে পারি, তখন আমাদের শরীরে অক্সিটোসিন নামক 'বন্ডিং হরমোন' নিঃসৃত হওয়ার উদ্দীপনা তৈরি হয়। কিন্তু যদি সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারি, বা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হই, তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে ভিড়ের মাঝেও একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ। ধরুন, আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাসে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন। দেখা গেল, তারা সবাই পাশাপাশি সিটে বসেছে, আর সিট না থাকায় আপনাকে বারবার একা অন্য একটি সিটে বসতে হচ্ছে। অথবা তারা হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছে, আর আপনি নীরবে তাদের পেছনে হাঁটছেন। আপনি যখন কথা বলছেন, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না; বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দিচ্ছে। আবার বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমত প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা। আশেপাশের বন্ধুদের মধ্যে পরিবর্তন আনা জরুরি। এমন বন্ধুদের সঙ্গেই চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তবে প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে সবাই আপনাকে সবসময় সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সঙ্গে একা সময় কাটানোকে শাস্তি নয়, বরং উপভোগ করার অভ্যাস তৈরি করা।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন