প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর ব্যবহারে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশে আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও সহজ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হবে। আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের পর অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পর্যায়ে লেনদেনের খরচ কমানোর জন্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট ও ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নিরাপদ, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য এটি অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই দেশের একক আন্তঃসংযোগযোগ্য কিউআর পেমেন্ট মান হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক মূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ, ১ জুলাই থেকে মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে বাংলা কিউআর লেনদেনের সংখ্যা গড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণমূলক সহজীকরণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর প্রতিস্থাপন করেছে। পাশাপাশি বাংলা কিউআরের কার্যকারিতা, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কার্যকরী কমিটির পাশাপাশি গভর্নরকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি বাংলা কিউআর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করছে।
মার্চেন্টের হিসাবে তাৎক্ষণিক টাকা:
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে।
ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর মার্চেন্টকে অর্থ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এতে বাংলা কিউআর ব্যবহারে মার্চেন্টদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কমছে লেনদেনের খরচ:
আগামীকাল থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের জন্য বিনা চার্জে অথবা স্বল্প চার্জে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।
২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা:
বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামীকাল থেকে নতুন প্রণোদনা ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। সব মার্চেন্ট পয়েন্টে জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন:
বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর চালু হবে। এর ফলে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃসংযোগযোগ্যভাবে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
এর মাধ্যমে শুধু মার্চেন্ট পর্যায়ে পেমেন্ট নয়, ব্যক্তি পর্যায়েও বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্যর্থ লেনদেনে দ্রুত অর্থ ফেরত:
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে বাংলা কিউআর লেনদেন ব্যর্থ হলে গ্রাহকের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বা দ্রুততম সময়ে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলা কিউআরের মাধ্যমে সম্পাদিত লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
লেনদেন নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগের ফলে দেশজুড়ে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়বে এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন