প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব নয়, এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এআইয়ের দায়িত্বশীল, নীতিগত ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কোন ধরনের কাজ বা গবেষণায় এআই ব্যবহার করা যাবে, কোথায় যাবে না এবং ঠিক কতটুকু ব্যবহার করা যাবে তা নীতিমালায় স্পষ্ট থাকা উচিত। এআই শিক্ষা ও গবেষণাকে দ্রুত করলেও এটি ভুল তথ্য ও পক্ষপাত ছড়াতে পারে। এআই চালিত 'লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল' কোনো উত্তরের দায় নেবে না। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত দায়ভার ও স্বচ্ছতা আমাদেরকেই নিতে হবে।’
আজ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টিগ্রিটি কনক্লেভ ২০২৬’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গবেষণায় স্বচ্ছতা রক্ষায় ‘এআই ডিসক্লোজার স্টেটমেন্ট’ চালুর প্রস্তাব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, নীতিমালায় কোন এআই টুল কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তথ্য বিষয়ে কীভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে, তা গবেষককে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
এআই যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মূল্যায়নে প্রথাগত ধারার পরিবর্তনের ওপর তিনি জোর দেন। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তা, মৌখিক পরীক্ষা, গবেষণার খসড়া নথি সংরক্ষণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের মতো পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, কেবল এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে।
একাডেমিক অসততা বন্ধে শিক্ষকদের পদোন্নতিতে গবেষণার সংখ্যার চেয়ে মানকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, পাঁচটি নিম্নমানের প্রকাশনার চেয়ে একটি উচ্চমানের গবেষণাপত্র অধিক মূল্যবান। গবেষণাপত্র বাড়ানোর অন্ধ প্রতিযোগিতার সুযোগে প্রিডেটরি জার্নালে প্রকাশনা এবং এআই দিয়ে ভুয়া ডাটা তৈরির যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক।
শিক্ষার্থীদের গবেষণার সততা নিশ্চিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের আগেই সব শৃঙ্খলা বা বিভাগের জন্য ‘গবেষণার নৈতিকতা ও সঠিক উদ্ধৃতি’ সংক্রান্ত একটি বাধ্যবাধকতামূলক কোর্স চালুর পরামর্শ দেন ইউজিসি প্রধান। তিনি চৌর্যবৃত্তি, লেখকত্ব, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও এআই ব্যবহারের সীমা নির্ধারণে একটি জাতীয় কাঠামো তৈরির ওপরও জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য রাশেদা কে চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসুফ হায়দার, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টার্নিটিনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক চৈতালি মিত্র এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক ও শিক্ষাবিদগণ এতে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন