প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে 'ক্ষতিকর' মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটিতে থাকবে বুয়েটের একজন, সায়েন্স ল্যাবরেটরির একজন ও বিএসটিআইয়ের একজন বিশেষজ্ঞ। স্বাস্থ্য সচিব ও বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। আদালত ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার আদালতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে টুথপেস্টের মধ্যে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক রোধে কার্যকর ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল জারি করেছে।
এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
এটিই ছিল বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন অভিযোগ ও তদন্ত করার জন্য। গতকাল সোমবার দেশের বাজারে ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রিট দায়ের করা হয়। এ রিটে আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আবেদন করেছেন। স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ২০ থেকে ৩২০টির মধ্যে ছিল। শিশুদের জন্য তৈরি হওয়া ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এক নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসে। গবেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব টুথপেস্ট বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।
দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ভারতের পাঁচটি নমুনার মধ্যে একটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুই নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার মধ্যে ছয়টি শিশুদের টুথপেস্ট ছিল। এর মধ্যে প্রতিটি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ছিল। তবে গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, টুথপেস্টের নমুনাগুলো খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেগুলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে পরীক্ষা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন