প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া বিরোধীতা করে পদত্যাগ করেছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উত্তর আমেরিকান ক্রীড়া কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কার্লোস কর্দেইরো।
ফিফা এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ সংস্থার বাণিজ্যিক অধিকার ও বৈশ্বিক ইভেন্ট পরিচালনা করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রাখছে। তবে কর্দেইরো এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয় বলে চিহ্নিত করে বলেন, এটি ফুটবলের আর্থিক ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে, যা ইনফোবে ও ইইই-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে, কর্দেইরো বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নীরব থাকতে পারেন না।
তিনি আরো বলেন, 'আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই প্রস্তাবের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি। এটি সদস্য ফেডারেশনগুলোর জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্যও একটি খারাপ চুক্তি।'
কর্দেইরোর মতে, উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ফিফার ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। তাই এ ধরনের সবচেয়ে লাভজনক সম্পদ 'বিশ্বকাপের স্থায়ী অংশীদারিত্ব' বিক্রি করা মানে ফুটবলের ভবিষ্যৎকে বন্ধক রাখা, যার পক্ষে কোনো শক্ত বা স্বচ্ছ যুক্তি নেই।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং অন্যান্য মহাদেশীয় কনফেডারেশনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ফিফা এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে বলে খবর বেরিয়েছে।
কর্দেইরোর পদত্যাগ ইনফান্তিনোর জন্য এক বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ধাক্কা। এল কনফিডেনশিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাই ছিলেন না; তিনি যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের (ইউএস সকার) সাবেক সভাপতি এবং উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা, ফিফা ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন।
উত্তর আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর ও আমেরিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনে পরিণত করেছিল। তার পদত্যাগের মাধ্যমে ইনফান্তিনো এই অঞ্চলে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীকে হারালেন।
কর্দেইরোর পদত্যাগ শুধু ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকেই ধীরগতি করেনি, বরং এটিকে ইনফান্তিনোর সভাপতিত্বের সময়ের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন