প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের মুলাদীর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। স্বামীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালত ওই শিক্ষিকা এবং তার কথিত প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মনির হোসেন চৌধুরী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের নাসরিন সুলতানাকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর নাসরিনের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ দেখে মনির তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি প্রবাসে থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বহন করেন। পরে নাসরিন মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামছুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে নাসরিন বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের তারিকুল ইসলামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে মনির অভিযোগ করেন। গত জুলাইয়ে নাসরিন মনিরকে তালাক দিয়ে তারিকুলকে বিয়ে করেন এবং এ সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ২০ জুলাই মনির হোসেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।
মামলায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, তাদের কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মনির হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, নাসরিন তার প্রবাসের উপার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে যান। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলার নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন