প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে, এক রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ওয়েভের এই ম্যাচে বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি ওপেনার বেথ মুনির অনবদ্য অর্ধশতকও অজিদের সহজ জয় এনে দেয়।
মোট ১০ আসরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আটবারই ফাইনালে উঠেছে। তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সংখ্যা রেকর্ড ছয়বার। অন্য দলগুলো একটির বেশি শিরোপা পেতে পারেনি। তিনবারের বেশি ফাইনালে উঠতে পারেনি কোনো দল। অস্ট্রেলিয়া শুধু প্রথম ও গত আসরে ফাইনালে উঠতে পারেনি।
মঙ্গলবার ওভালে ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটির পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে কোনোমতে ১২৫ পর্যন্ত যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া লক্ষ্য পৌঁছে ১৩ ওভারে তাদের জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের একমাত্র ফিফটিতে আট চারে ৩৬ বলে ৬১ রানের ইনিংসে জয় নিয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুনি। তবে ম্যাচ সেরা তিনি নন। চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পরে, ২০ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পুরস্কারটি পান অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার অ্যাশলি গার্ডনার।
উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে তিনি তিনবার ম্যাচ সেরা হয়েছেন, যা কোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ।
লেগ স্পিনার জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম ১৭ রানে ও বাঁহাতি স্পিনার সোফি মলিনিউ ৩০ রানে ২টি করে উইকেট নেন।
টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ১৮-২। বিশ্বকাপে এই ব্যবধান হলো ৬-১, যেখানে একমাত্র হারের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৬ সালের ফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাতবার সেমি-ফাইনালে অংশগ্রহণ করেছে এবং তারা ছয়টিতে হেরে গেছে। এ দিন টস জিতে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সোফি মলিনিউ বোলিং নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস জানান, টস জিতলে তিনিও বোলিং নিতেন।
ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য, তাদের টস জয় পূরণ হয়নি। ম্যাথিউসের মাঠে প্রথম বলে চার মেরে শুরুতেই বেশ ভালো অবস্থানে ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে ৩৫ রান আসে।
৩০ বলে ২৮ রান করা ম্যাথিউসের বিদায়ের পর নবম ওভারে শুরু হয় জুটির পতন। ম্যাচে ওয়্যারহ্যামের প্রথম বলেই প্যাডল-সুইপের চেষ্টায় ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক বোল্ড হন।
পরে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দিতে থাকেন ও অন্যান্য ব্যাটাররা। বিনা উইকেটে ৪৭ থেকে আচমকা ৪ উইকেটে ৫৯ ও ৬ উইকেটে ৮৩ হয়ে যায় স্কোর।
জাতীয় সঙ্গীতের সময় সতীর্থদের কাঁধে ভর করে মাঠ থেকে বের হয়ে আসা ডিয়েন্ড্রা ডটিন ব্যাটিংয়ে নামতে পারবে কি না, তা নিয়ে ছিল সন্দিহান। তবে শেষ পর্যন্ত আট নম্বরে ব্যাট করতে এসে ১৬ বলে অপরাজিত ২৬ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ১২৫ পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রান তাড়ার ক্ষেত্রে ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও জর্জিয়া ভল থেমে যান। দুই চার ও এক ছক্কায় ১১ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তিন নম্বরে নেমে দ্রুত নিবন্ধন করেন ফিবি লিচফিল্ড। অস্ট্রেলিয়া ৪৩ রানে ২ উইকেট হারায়।
চার নম্বরে নেমে অস্বস্তি অনুভব করায় সাত বল খেলে মাঠ ছেড়ে যান অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এলিস পেরি। তবে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত ছিল। অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটিতে উন্নতিশীল হয়ে মুনি ও গার্ডনার জয় নিশ্চিত করেন।
মুনি ২৯ বলে ফিফটি করেন। এটি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল বা ফাইনালে দ্রুততম ফিফটি। ২০২০ সালের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালিসা হিলির ৩০ বলে ফিফটি ছিল আগের রেকর্ড।
বিশ্বকাপে মুনির পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংসের সংখ্যা আটটি, নিউ জিল্যান্ডের সুজি বেটসের সাথে যা সমান। তবে বেটস যেখানে ৪৪ ইনিংসে ওয়ার্ক করেছেন, মুনি কেবল ৩১ ইনিংসে।
এ আসরে ছয়টি ম্যাচ জয়ী হয়ে অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে উঠল। আগামী রোববার লর্ডসে শিরোপা লড়াইয়ে তারা ইংল্যান্ড অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন