প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির গ্রাহক ফোরাম এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ব্যাংকের দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় পৃথকভাবে দুই পক্ষের লোকজন অবস্থান করছে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করছেন। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশও করছেন। অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। পরে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রার মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম দাবি করছে, অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাই অবৈধ। তারা বলছেন, অর্থপাচারকারী এস আলম কোনো সার্কুলার ছাড়াই, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এবং বহু জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিয়েছিল। ৫ আগস্টের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের প্রভাবমুক্ত, সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে দ্রুত পর্ষদ গঠনের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি টানা তিন দিন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের স্লোগান দিতে দেখা যায়, ‘দফা এক দাবি এক, পুনর্বহাল পুনর্বহাল’। চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে আসা। তারা জানান, প্রথমে মতিঝিল শাপলা চত্বর ও পরে শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, "ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।" তিনি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান।
এছাড়া, নুরুন্নবী মানিক এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার করে ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত এবং অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধা সমন্বয়ের দাবি জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, "ব্যাংক কম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।" তিনি জানান, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। চাকরিচ্যুতদের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। পরে চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরির জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেকেই বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত আছেন বলে জানান তিনি।
মুতাসিম বিল্লাহ দাবি করেন, আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে তাদের পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ফোরামের আপত্তি রয়েছে। আন্দোলনরত চাকরিচ্যুতদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা এবং তারা এস আলম গ্রুপের সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করার পর কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা চাকরিতে পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রাপ্য পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। চাকরি হারানোর পর পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমরা চাকরি ফেরত চাই। এ বিষয়ে আর কোনো তালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।"
গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে টিপু প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সরকারকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। টিপু জানান, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। এতে বাধা দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। পরে মতিঝিল এলাকা থেকে মিছিলের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন