প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক বিভাজন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সাথে সম্পর্কিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এ অবস্থায় গত শনিবার মিশিগানের কারে (Caro) শহরে অনুষ্ঠিত এক টাউনহল সভায় তিনি এক দর্শকের কঠোর প্রশ্নের সম্মুখীন হন।
সভায় এক ব্যক্তি আব্দুল এল-সায়েদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানতে চান, তিনি ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট বা অস্বীকার করবেন কি না। এল-সায়েদ ওই আন্দোলনকে অস্বীকার করার পাশাপাশি প্রশ্নকর্তাকে তীব্র ভাষায় জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রশ্নকর্তা তাঁর মধ্যে ‘দ্বৈত আনুগত্য’ (dual loyalty) বা মার্কিন সংবিধানের প্রতি অবিশ্বাসের সন্দেহ তৈরির চেষ্টা করছেন।
এল-সায়েদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনি ধরে নিয়েছেন যে—যেহেতু আমি মুসলিম, সেহেতু আমাদের সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো কিছুর প্রতি আমার আনুগত্য থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে একমাত্র পথপ্রদর্শক আলো হলো আমাদের এই সংবিধান।” তাঁর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা তাকে করতালিতে সমর্থন জানায় এবং প্রশ্নকর্তা সভা ছেড়ে চলে যান।
মিশিগানের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্স এবং আব্দুল এল-সায়েদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর নাম ভুল উচ্চারণ করেন।
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সিএনএন-এর সাথে সাক্ষাৎকারে জানান যে তিনি এল-সায়েদকে সরাসরি সন্ত্রাসী বলেননি, তবে তাঁর কট্টর আদর্শ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে তাঁর পরিবারের কিছু অতীত যোগাযোগের বিষয়টিকে বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ও রিপাবলিকানদের দাবি, এল-সায়েদের পরিবারের কিছু সদস্য অতীতে এই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সংযোগের প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
উল্লেখ্য, মিসরে প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’ একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলন, যা ঐতিহাসিকভাবে সহিংসতা পরিহারের কথা বললেও এর বিভিন্ন শাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা চলছে। বর্তমান নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এই ইস্যুটি মিশিগানের ভোটারদের মেরুকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সূত্র: সিএনএন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন