প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে। নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কমিটিতে তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং তুলনামূলক ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ এবং দলের কঠিন সময়ে পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে মহানগরী উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বকে নতুন করে মূল্যায়ন করার কথা ভাবছে বিএনপি। এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা হিসেবে মহানগর জুড়ে তার খ্যাতি রয়েছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান ও ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ ও সাবেক দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শাখার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয় এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমে গতি ফেরানোর চেষ্টা করা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলটি সাংগঠনিকভাবে কার্যকর নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে পারে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক সংগঠনে পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’
তবে আলোচনায় থাকা নামগুলো এখনো সম্ভাব্য হিসেবেই রয়েছে; বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কারও নিয়োগ নিশ্চিত নয়। দলটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন কমিটি অতি শিগগিরই ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন