প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরান যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন। স্যান্ডার্স বলেছেন, "যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।" তাই, তিনি মনে করেন, যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নাম পরিবর্তনের চেয়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ট্রাম্পকে স্যান্ডার্স সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "আপনি প্রেসিডেন্ট, কোনো পাগল রাজা নন। সেভাবেই আচরণ করুন।" ট্রাম্পকে ‘পাগল রাজা’ হিসেবে অভিহিত করার মাধ্যমে স্যান্ডার্স যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে ‘ম্যাড কিং’ বা ‘পাগল রাজা’ বলতে বোঝানো হয় ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জকে। তার শাসনামলে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৭৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা লাভ করে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিতর্কটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ। এই প্রণালির নাম বহু শতাব্দী পুরোনো এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই এর ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে। তাই, ট্রাম্পের সমালোচকেরা মনে করেন, কোনো প্রেসিডেন্টের নামে এর নামকরণের উদ্যোগ ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রীকরণের উদাহরণ।
স্যান্ডার্সের বক্তব্যের মূল সুর হলো—ইরান যুদ্ধের কারণে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত যুদ্ধ বন্ধে মনোযোগ দেওয়া। ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন বা ঐতিহাসিক কোনো স্থাপনা কিংবা জলপথের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার চেষ্টা নয়।
স্যান্ডার্সের মতে, সামরিক হুমকি ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ সব সময় রাজনৈতিক সমাধান এনে দেয় না। তৃতীয় জর্জের ইতিহাসও তার একটি উদাহরণ। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রক্ষার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বিপরীত ফল বয়ে এনেছিল।
সুতরাং, স্যান্ডার্সের বক্তব্য "আপনি প্রেসিডেন্ট, পাগল রাজা নন"—এটি শুধুমাত্র ট্রাম্পবিরোধী রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবে দেখা হলে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপেক্ষিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি আমেরিকার অন্যতম মৌলিক রাজনৈতিক ধারণা—ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহির—কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
তার বার্তা পরিষ্কার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট যত শক্তিশালীই হোন, তিনি রাজা নন; এবং যুদ্ধ, হুমকি ও শক্তি প্রদর্শন যদি কূটনীতি ও রাজনীতির জায়গা দখল করে নেয়, ইতিহাসের মতোই তার ফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন