প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গবেষকরা বাংলাদেশসহ আটটি দেশকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বতে হিমবাহ ধসের পর এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানায়।
আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ঘটনা শুধু পাহাড়ি দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার জুড়ে এর প্রভাব বিস্তার করে।
গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রতিবেদন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আইসিআইএমওডির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা পারমাফ্রস্টও নরম হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমিধস, হঠাৎ হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার এবং হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে জনপদ ভাসিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা ঘিরে থাকা দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের জন্য একের পর এক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। নদীগুলো হলো—আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।
এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনীতি চালু রাখতে বড় অবদান রাখছে। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গঙ্গা নদী ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে, তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যেখানে এর প্রধান ধারা যমুনা নামে পরিচিত।
গবেষকরা উদ্বিগ্ন যে, জলবায়ুর সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ভাটি অঞ্চলের প্রায় দুই শ কোটি মানুষ বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অংশে প্রায় দুইশটি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেন, “প্রশ্ন এখন এটা নয় যে, এমন ঘটনা আরও ঘটবে কি না? বরং কখন ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, দেশগুলোকে তথ্য বিনিময় করতে হবে, আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেবলমাত্র এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই বন্যা-ভূমিধসের মতো ঘটনায় প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ৪০ হাজারের বেশি হিমবাহের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব কি না? নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল বলেন, “হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ ও প্রতিটি পাথুরে ঢাল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি চালানো সম্ভব।”
তার মতে, হিমবাহের নিচে জলবিদ্যুৎ বাঁধ, বড় শহর কিংবা জনবসতি থাকলে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ পাহাড়ে সামান্য অস্থিতিশীলতা এসব এলাকায় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন ইমারজিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন