প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের কারণে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয়বারের জন্য ভারত সফর করার পরেও তিনি দিল্লিতে পা রাখছেন না। পরিবর্তে, সোমবার তিনি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুম্বাইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন। এরপর তিনি গুজরাটের জামনগরে একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শনে যাবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, রুবিওর সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করা। তবে বিষয়টি বিতর্কের সৃষ্টি করে যখন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছেন যে, রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কারকে মুম্বাইয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ভারতের বিরোধী দলীয় নেতারা এইভাবে স্বদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে বৈঠক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, মার্কো রুবিও যেন মুম্বাইয়ে তার কর্মচারীকে তলব করেছেন। অন্য নেতাদের মতে, বিদেশি সরকারের নির্দেশে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সফর করতে বাধ্য করা মোদি সরকারের জন্য একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার রয়েছে, যা মার্কিন জ্বালানি রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাছাড়া, ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং টেক্সাসে রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগের বিষয়গুলোও এই সফরের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক শুল্ক, রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার মার্কিন চাপ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ভিসা ইস্যুতে যখন ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, তখন এমন একটি সফর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন