প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) দাবি করেছে, দেশের আমদানি করা গাড়ির বাজার ধীরে ধীরে জাপানের হাতছাড়া হয়ে চীন এবং ভারতের দখলে চলে যাচ্ছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির জন্য যে শুল্ক সুবিধা রাখা হয়েছে, তা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি-না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। এই অবস্থায় প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য দেওয়া সুবিধা আড়াই হাজার সিসি পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।
সরকার দেশে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানান, ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে করভার নামিয়ে আনা হয়েছে ৮০ শতাংশে।
বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ইভিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে হাইব্রিড গাড়িকে প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর ১৮০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বারভিডার সাবেক সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, পরিবেশবান্ধব গাড়ির ক্ষেত্রে হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিডকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, দুই ধরনের গাড়িই পরিবেশবান্ধব।
এদিকে, এই শুল্ক সুবিধা রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি-না, তা বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করা হয়নি। তবে শুল্কায়নের জন্য ব্যবহৃত দুটি এইচএস কোডে সমান সুযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। এ বিষয়ে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান বলেন, বাজেটে অনেক বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং মনে হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ১ থেকে ২০০০ সিসির মধ্যে জাপানি প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির প্রায় উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এই রেঞ্জে চীনা, হুন্দাই, মার্সিডিজ এবং বিএমডব্লিউসহ বিভিন্ন দেশের গাড়ি রয়েছে।
বারভিডার দাবি, নতুন সুবিধা থেকে জাপানি গাড়িগুলো কার্যত বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণ জাপানের অধিকাংশ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সিসি শুরু হয় আড়াই হাজার থেকে। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, এই কাঠামোতে বাজারের সুবিধা মূলত চীন এবং ভারতের গাড়ির দখলে চলে যাবে।
বারভিডার সাবেক সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, শুধু প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে সুবিধা দিতে হলে করসুবিধার আওতা ২ হাজার ৫০০ সিসি পর্যন্ত বাড়ানো উচিত। অর্থাৎ ১ থেকে ১ হাজার ৮০০ সিসি এবং ১ হাজার ৮০১ থেকে ২ হাজার ৫০০ সিসি; এই দুই স্তরে সুবিধা দিলে জাপানি গাড়ির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের গাড়ি সমানভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
শুল্ক সুবিধার কারণে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার যখন ধীরে ধীরে চীনের দখলে চলে যাচ্ছে, তখন বারভিডার দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে জ্বালানিচালিত (আইসি) গাড়ির ক্ষেত্রেও। কারণ, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির আইসি গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার ঘোষণা বাজেট বক্তৃতায় দেওয়া হয়েছে।
তবে অ্যাসাইকুডার তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০১ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (এসডি) ৪৫ শতাংশই রাখা হয়েছে, কিন্তু ১ হাজার ২০১ থেকে ১ হাজার ৫০০ সিসি গাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। অথচ দেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা এই সীমার মধ্যেই।
এ বিষয়ে মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ১ থেকে ১ হাজার ২০০ সিসির শ্রেণিতে জাপানি গাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে, সেখানে ভারতীয় গাড়ির উপস্থিতি বেশি। নির্দিষ্ট একটি দেশের গাড়িকে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যেই সিসি-ভিত্তিক এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। অপরদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি জাপানি হোম মডেলের গাড়ি আমদানি হয়, আর সেই শ্রেণিতেই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে গাড়ির বাজারে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, এখনো সময় আছে কর কাঠামো এমনভাবে সাজানোর, যাতে সব ধরনের গাড়ি সমান সুযোগ পায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষিত এবং জনপ্রিয় জাপানি গাড়িগুলোও যেন বাজার থেকে ছিটকে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বৈদ্যুতিক বাস এবং ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য উপকরণ এবং কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাটসহ সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন