প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিতর্কিত একটি এলাকার বাজারে দেশটির সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার সর্বশেষ ঘটনা।
আবেই জেলার কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার আমিয়েত বাজারে হামলাটি চালানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এ সময় সেনাবাহিনী ২২টি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। হামলায় অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন।
খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হতাহতের মধ্যে রয়েছেন ঝুঁকিপূর্ণ বেসামরিক জনগণের সদস্যরা। তাদের মধ্যে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, স্থানীয় ব্যবসায়ী, ওই এলাকার আদিবাসী এনগক দিনকা জনগণের সদস্য, দক্ষিণ সুদান থেকে ফিরে আসা মানুষ এবং আঞ্চলিক সংঘাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া সুদানি শরণার্থীরা রয়েছেন।’
আবেইয়ে হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, ‘আমিয়েত বাজারে অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। অনেকের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
রোববার ও সোমবার সুদানের বিভিন্ন স্থানে হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটি।
আবেই জেলা সুদান ও দক্ষিণ সুদানের উভয় দেশের দাবি করা একটি ভূখণ্ড। কয়েক দশকের সংঘাতের পর ২০১১ সালে উত্তর সুদান থেকে আলাদা হয়ে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করে।
জেলার কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থের (এসপিএলএম-এন) একটি উপদলের হাতে। সংগঠনটি একসময় জুবার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিল। পরে এটি মূল সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।
দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার ঘটনায় তারা সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। জুবা এ হামলার ‘কঠোরতম ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে।
দক্ষিণ সুদান অভিযোগ করেছে, সুদানের সেনাবাহিনী বাজারটির একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। বাজারটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সুদানের এই যুদ্ধ বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতির সংকট সৃষ্টি করেছে। ত্রাণকর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, এতে দুই লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ কয়েকটি বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে ক্রমেই উন্নত অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দেশই সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুদানের বিশ্লেষক খোলুদ খায়েরের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাল্টাপাল্টি প্রাণঘাতী হামলার ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। উভয় পক্ষই কৌশলগত স্থাপনা ও বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
সেনাবাহিনী আরএসএফের কার্যত রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিয়ালা এবং এল-দাঈন শহরে কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগলোর রিজেইগাত গোত্রের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, আরএসএফ ড্রোন দিয়ে রাজধানী খার্তুমের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এতে তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বাঁধগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
শান্তি প্রচেষ্টা সমন্বয়ের লক্ষ্যে জাতিসংঘ বর্তমানে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বৈঠক করছে।
এ ধরণের পরামর্শমূলক বৈঠক এটি ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তথাকথিত ‘কুইন্টেট’ বা পাঁচ পক্ষের জোট—জাতিসংঘ, আরব লিগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, পূর্ব আফ্রিকার আন্তসরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইজিএডি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন— বেসামরিক নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষই যুদ্ধক্ষেত্রে অচলাবস্থায় রয়েছে।
সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সুদানের পূর্ব, মধ্য ও উত্তরাঞ্চল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন