প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে।
তিনি এই মন্তব্য করেন রোববার কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেলেনস্কি উভয়েই বৈঠকটিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
উইটকফ, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত, এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার পর কিয়েভে পৌঁছান। এটি ছিল তাদের প্রথম সফর ইউক্রেনের রাজধানীতে। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কিয়েভ রুশ হামলার শিকার হয়ে আসছে।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
তিনি এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। রোববার তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের নেতাদের সরাসরি বৈঠক ছাড়া ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। শনিবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা যুদ্ধক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি অর্জনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
উইটকফ বলেন, তাদের আলোচনা ছিল ‘অত্যন্ত অর্থবহ, গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক’ এবং তারা এতে ‘খুবই উৎসাহিত’ হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্যারেড কুশনার মন্তব্য করেন, ‘আশা করি, এই সফরের মাধ্যমে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার কিছু নতুন পথ খুঁজে পেয়েছি। এই সফর থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’
এই যুদ্ধ, যা ইউরোপের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত, বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগকে পুনরায় সক্রিয় করতেই উইটকফ ও কুশনারের এই সফর।
গত গ্রীষ্মজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতার পর শান্তি আলোচনা নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আরেক দফা আলোচনা চলছিল।
জেলেনস্কি ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একই পক্ষের।’
অন্যান্য বিদেশি কর্মকর্তাদের মতো মার্কিন প্রতিনিধিরাও ট্রেনে করে কিয়েভে পৌঁছান। কিয়েভের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনে তাদের স্বাগত জানানো হয়, যেখানে প্ল্যাটফর্মে লেখা ছিল ‘পিস এক্সপ্রেস’।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন কিয়েভের বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে রুশ হামলার কারণে এখনো বিমানযোগে কিয়েভে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করার পর থেকেই ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
মস্কোর আগ্রাসনে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘বাস্তবভিত্তিক কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।’
তবে ক্রেমলিন বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা যুদ্ধের সমাধানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে ‘বেশ কয়েকটি ধারণা’ তুলে ধরেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন