প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি, অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের সুফলও অর্জন করা যেতে পারে। এই তথ্যটি বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনটি কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।
এছাড়া, হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বৃদ্ধি, বাসা-বাড়িতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দাম নির্ধারণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।
ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘জলবায়ু সংকট মানেই স্বাস্থ্য সংকট। তবে এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় অংশ আমাদের হাতে থাকা উপায় ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ‘তিন ধরনের সুফল’ অর্জন সম্ভব। এই সুফলগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানুষের সুস্থতা রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।
প্রাণহানি রোধের পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিবছর ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, মানুষের প্রাণ বাঁচানো, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাড়তি সুফল আসতে পারে।
ডব্লিউএইচও স্বীকার করেছে, গবেষণাটি উচ্চাভিলাষী কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এছাড়া, তথ্যের ঘাটতি এবং পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা বিদ্যমান রয়েছে।
তবে টেড্রোস বলেন, প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর ব্যাপক বাস্তবায়ন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। যাদের এই সহায়তা সবচেয়ে বেশি জরুরী, তারা সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে।
আগামী সপ্তাহে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে টেড্রোস তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু মোকাবিলার সব উদ্যোগের ‘কেন্দ্রে’ যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন