প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিনল্যান্ড ১০ লাখ স্থলমাইন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটি এসব মাইন ক্রয়ের জন্য ১০ কোটি ইউরো ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। জাতিসংঘের একটি চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার পর ফিনল্যান্ড এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হেলসিংকির এই পরিকল্পনা ইউক্রেনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মস্কোর ক্রমাগত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসেছে। গত বছর ফিনল্যান্ড অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে আসে, যা সামরিক উসকানির বিরুদ্ধে ছিল।
এছাড়া, ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো যেমন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডও মস্কোর সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছে।
ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনী কমান্ডের কর্নেল রিকু মিক্কোনেন জানিয়েছেন, কর্মকর্তারা বর্তমানে এই চুক্তির বিষয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
হেলসিংকি দেশীয় নির্মাতাদের মাধ্যমে মাইনগুলো সরবরাহ করার পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে।
মিক্কোনেন এসটিটিকে বলেন, যদি ফিনল্যান্ডের কোম্পানিগুলো দেশেই এই অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইনগুলো তৈরি করে, তবে তা বিভিন্ন দিক থেকে লাভজনক হবে। তিনি আরও জানান, ফিনল্যান্ডের প্রায় আধা ডজন কোম্পানির এই কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।
তবে, বিদেশ থেকে মাইন কেনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না, বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিনল্যান্ড ২০১২ সালে অটোয়া কনভেনশনে যোগ দিয়েছিল, যা অ্যান্টি-পার্সোনেল স্থলমাইন নির্মূলের জন্য একটি মানবিক চুক্তি।
ফিনল্যান্ড জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তারা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তারা আর এই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয়।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতেরি ওরপো প্রতিবেশী রাশিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিনল্যান্ডের রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ফিনল্যান্ড তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
এছাড়া, পূর্ব দিক থেকে অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফিনল্যান্ডে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রুশ নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন, "রাশিয়া যতদিন তাদের আগ্রাসন চালিয়ে যাবে, ততদিন রুশ নাগরিকদের পর্যটক ভিসা দেওয়া উচিত নয়।" ভালতোনেন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো রুশ নাগরিকদের প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটক ভিসা দিয়েছে। ফিনল্যান্ড ২০২২ সালেই এ ধরনের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইউরোপীয় জোটের বাকি দেশগুলোরও একই পথ অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সূত্র : আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন