প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের চিনামাটির পাহাড়ে একটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুর, নেত্রকোনা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে পাহাড়, নদী, লেক ও সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক আসেন। বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, চিনামাটির লেক, সোমেশ্বরী নদী, রানীখং পাহাড়, গারো পাহাড় এবং সাধুপাড়া সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এই অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৬টি অস্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং দুটি মোটরসাইকেল টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-৫ থেকে এ-সংক্রান্ত সরকারি পত্র জারি করা হয়। উপসচিব কাজী লুতফুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে তদন্তকেন্দ্র স্থাপন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল এবং যানবাহনের অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্গাপুরের পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও চিনামাটির লেক। প্রতিদিনই এসব স্থানে পর্যটকদের ভিড় জমে। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং বিভিন্ন উৎসবের সময় পর্যটকদের উপস্থিতি পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে। সোমেশ্বরী নদীর বালুচর, রানীখং পাহাড়, সাধুপাড়া ও গারো পাহাড়ের পাদদেশেও পর্যটকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়।
তবে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, অপরাধ ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ, দুর্ঘটনায় দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল।
চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হলে পর্যটন এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পর্যটকেরা আরও নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই উদ্যোগকে দুর্গাপুরের পর্যটন উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয়রা দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চিনামাটির পাহাড়সহ আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটন সম্ভাবনাময় দুর্গাপুরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ ধরে রাখতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চিনামাটির পাহাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্র সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন