প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিউটেশন ফাইলে ১০–২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, জালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের দাবি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম, হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিয়াজ মাখদুম। পাশাপাশি জালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি বা মিউটেশন, খতিয়ান সংশোধন, ওয়ারিশসূত্রে জমির রেকর্ড, জমাভাগসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পেতে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো মিউটেশন ফাইলের কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হয়।
সরকারি ফি বনাম কথিত অতিরিক্ত অর্থ: সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, মিউটেশন আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা এবং অনুমোদনের পর DCR ফি ১,১০০ টাকা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী এর বাইরে ১০–২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হলে সেই অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
জালালের মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জালাল ভূমি অফিসকেন্দ্রিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। তার মাধ্যমে ফাইলের কাজ দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফাইলের ধরন ও জমির জটিলতা অনুযায়ী টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়। একাধিক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে এভাবে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে মোট লেনদেনের পরিমাণ কত-তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
অন্যের জমি ও জাল দলিল নিয়েও অভিযোগ: স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করার চেষ্টা, ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে রেকর্ড পরিবর্তন, সন্দেহজনক বা জাল দলিল ব্যবহার এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির মতো বিষয়েও দালালদের তৎপরতা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো জমি বা দলিলের বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নথিপত্র যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে দাবি করা যাচ্ছে না।
তদন্তের দাবি: ভুক্তভোগীরা বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বরিশাল জেলা প্রশাসনের কাছে পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মিউটেশনসহ সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়াজ মাখদুম ও জালালের ভূমিকা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ফাইলের নথিপত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে নিয়াজ মাখদুম ও জালালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
বিশেষ অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন