প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কার্যকর হবে, এমন তথ্য জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে সরকার এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবাটি চালুর পরিকল্পনা করছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়কের যানজট কমাতে সহায়তা করবে। পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে, এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চের পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় মালিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, বলে জানান নৌমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রুট ডিক্লারেশন, নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার, টার্মিনালে মাইকিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখতে বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে, মন্ত্রী সংসদে এ তথ্য জানান। তাঁর মতে, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।
কর্ণফুলী নদীতে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় নদীর গভীরতা ৮ মিটারে উন্নীত হয়েছে, বলে তিনি জানান।
নদী দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সরাসরি উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা নেই। দখলদারদের তালিকা তৈরির পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের ৪২৪টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন