প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মমুখী শিক্ষায় যুক্ত করানোর লক্ষ্যে সারা দেশের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
উপাচার্য জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার, আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ডাটা সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করবেন। এসব বিষয়ে পাঠদান নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যে ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা, উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই উদ্যোগের মুখ্য উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, শিল্প-একাডেমি সংযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
উপাচার্য জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর আওতায় কলেজগুলোতে ভাষা ক্লাব গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখার সুযোগ পায়। তিনি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। আশা করা হচ্ছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটিরও বেশি গাছ রোপণ সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প-একাডেমি সংযোগের হার বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম। এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করে শিক্ষার্থীদের মানবিক এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন