প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এই সফরের অংশ হিসেবে মস্কোতে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি ২০২৬ সালের মে মাসে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সিঙ্ক্রোনাইজেশন এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যে রাশিয়ার অব্যাহত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন।
জবাবে রাশিয়ান পক্ষ জানান, এই প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে। এছাড়া রোসাটমের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট আগামী গ্রীষ্ম নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলেক্সেই লিখাচেভের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের বহুমুখী ও টেকসই জ্বালানি চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)-এর প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিক সম্পর্কে জানতে চান।
এর জবাবে রোসাটমের মহাপরিচালক লিখাচেভ বাংলাদেশকে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট সরবরাহের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে রিঅ্যাক্টর প্রকৌশল, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ তৈরিতে রাশিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশের পেশাজীবীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হলে তারা জাতীয় এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে যেমন অবদান রাখতে পারবেন, তেমনি ভবিষ্যতে বিদেশের অনুরূপ প্রকল্পেও কাজ করার সুযোগও পাবেন।
বাংলাদেশের এই আহ্বানে রোসাটমের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন