প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নকাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি এবং মানহীন খোয়া ও বালুর পরিবর্তে ইটের গুঁড়া (ডাস্ট) ব্যবহার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, থানাহাট ইউপি কার্যালয় থেকে ব্যাপারীর হাট সড়ক (চেইনেজ ৯৫০ থেকে ২৩৫০ মিটার পর্যন্ত) উন্নয়নের কাজটি রাজশাহীভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'বরেন্দ্র কনট্রাকশন লিমিটেড' বাস্তবায়ন করছে। এই কাজটির জন্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ টাকার বরাদ্দ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ জুলাই কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রম করার পরও প্রতিষ্ঠানটি কচ্ছপ গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার কাজে নির্ধারিত নিয়মের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্ট্যান্ডার্ড বালু ব্যবহারের বিধান থাকলেও তার পরিবর্তে ইটের গুঁড়া বা ডাস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি মন্তব্য করেন, "আসলে সব জায়গায় যে খারাপ তা নয়, ভালো-খারাপের মিশ্রণ আছে।"
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের ফলে এই সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে। সামান্য বৃষ্টি বা ভারী যানবাহন চলাচল করলে পিচ ও খোয়া উঠে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অনিয়ম করে আসছে। দিনের পর দিন কাজ ফেলে রাখায় এলাকাবাসীর চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলজিইডির উপ-প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, বালুর পরিবর্তে ডাস্ট দিয়ে রাস্তা খারাপ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যে ডাস্ট ব্যবহার করা হয়েছে তা দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জগবন্ধু রায় জানিয়েছেন, সরেজমিন পরিদর্শন না করে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, যদি দ্রুত কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হয়, তবে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি জনগণের কোনো উপকারে আসবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন