প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর ও আকবর নগর গ্রামের সংঘর্ষের ফলে নিহত দুই যুবকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পরেও এলাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসেনি। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের পর মামলা এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আকবর নগরের বহু পুরুষ সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাদ আসর মিরারচর ঈদগাহ মাঠে নিহত মাসুদ মিয়া (২৮) এবং হিরণ মিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের মিরারচর কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বজনদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের নামকরণ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সোমবার (২৭ জুলাই) আকবর নগর এবং মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা ওই সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া এবং হিরণ মিয়া নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬০ জন। আহতদের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের এক দিন পর আকবর নগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাড়ির মূল ফটক খোলা থাকলেও সেখানে পুরুষ সদস্যদের উপস্থিতি খুবই কম। কয়েকটি বাড়িতে শুধু নারী, শিশু এবং বয়স্কদের অবস্থান করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের কারণে অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কতজনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে বা কতজনকে আসামি করা হয়েছে সে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন, সন্ধ্যার পর মানুষের চলাচল আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন