প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশস্কি (Oleshky) শহরে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই বিরতি কে মধ্যস্থতা করে অর্জন করেছেন—তা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক। একদিকে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের টিম এর কৃতিত্ব দাবি করছে, অন্যদিকে ভ্যাটিকান বলছে পোপের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মানবিক বিরতি সম্ভব হয়েছে।
ওলেশস্কি শহরটি রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র খাদ্য সংকট, ওষুধের অভাব এবং মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় চলছে। ২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের সম্মতিতে সেখানে একটি সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যার উদ্দেশ্য ১ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
মেলানিয়া ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের দাবি: মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত শুক্রবার এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, ওলেশস্কির পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে ছিল। হোয়াইট হাউসের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, মেলানিয়া এবং তাঁর প্রতিনিধি দল রাশিয়া ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে এই যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত করেছেন। ইউক্রেনীয় মানবাধিকার কর্মকর্তা দিমিত্রো লুবিনেটসও এই আলোচনার সমন্বয়ে সহায়তা করার জন্য মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও তাঁর দলকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ভ্যাটিকানের পাল্টা দাবি: এর ঠিক পরের দিনই ভ্যাটিকানের অফিশিয়াল পত্রিকা ‘ল’ওসের্ভাতোরে রোমানো’-র প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পোপের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়েছে। ভ্যাটিকান জানায়, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় পোপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে ওলেশস্কির শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানান। এ ছাড়া পোপের বিশেষ দূত কার্ডিনাল মাতেও জুপ্পি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মস্কো সফরকালেও এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ক্যাথলিক ভোটারদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতির দিকে থাকায় এই কৃতিত্বের দাবি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন