প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সন্ধ্যা নামার পর সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ যেখানে অন্ধকারে ডুবে থাকত, সেখানে এখন আলোকবাতি জ্বলছে। এই আলোতেই সন্ধ্যার পর খেলাধুলার আয়োজন জমে উঠছে। একসময় মাদকসেবীদের দখলে থাকা রাতের মাঠকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের করে নিয়েছেন সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
‘নাইট ফুটবল ক্লাব’ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক মো. সোহেল বলেন, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা রেলওয়ে মাঠে ফুটবল খেলা হয়। কাজের ব্যস্ততার কারণে ব্যায়াম বা জিম করার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতে রাতের ফুটবল খেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়; বরং মাদকসেবীদের আড্ডা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরকে ফিরিয়ে এনে সেখানে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করা। এই উদ্যোগের ফলে মাঠের রাতের চেহারা বদলে গেছে। একসময় সন্ধ্যা নামলেই যেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসত, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ত নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা। এখন সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ ফুটবলের উচ্ছ্বাসে মুখরিত।
সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার পর রাতে ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চা করা হচ্ছে। এতে শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাসও গড়ে উঠছে। দিনভর কর্মব্যস্ততা শেষে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, গাড়িচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হন। শুরুতে মাত্র আটজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন নিয়মিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন। ইতোমধ্যে মাঠের চারপাশে বাতিও লাগানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, মাদক প্রতিরোধে শুধু অভিযান বা সচেতনতামূলক প্রচারণাই নয়, তরুণদের জন্য বিকল্প সুস্থ বিনোদনের জায়গা তৈরি করাও জরুরি। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠের এই উদ্যোগ যেন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। যেখানে মাদকের আড্ডা সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল।
উদ্যোগটির আরেকটি বড় অর্জন হলো মাদকের আড্ডা কমে যাওয়া। রেলওয়ে মাঠে একসময় মাদকের আড্ডা ছিল। তাই ওই জায়গাতেই নাইট ফুটবল শুরু করা হয়। খেলাধুলা শুরু হওয়ার পর মাদকসেবীদের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে। এখন আরও অনেক মানুষ মাঠে খেলতে আসছেন। এমনকি অন্যান্য এলাকায়ও রাতে ফুটবল খেলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
ব্যবসায়ী কাইয়ুম খান ডলফিন ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভির বলেন, আগে মাঠে বিভিন্ন মাদকসেবী ও নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে তারা এই উদ্যোগ নেন। এখন নিয়মিত খেলাধুলার কারণে মাঠের পরিবেশ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। এতে একদিকে শরীরচর্চা হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজে মাদকের প্রভাবও কমছে।
মাঠের পাশের মাইক্রোস্ট্যান্ডের গাড়িচালক সেলিম, রেজাউলসহ কয়েকজন জানান, আগে রাত হলেই মাঠের বিভিন্ন অংশে মাদকের আড্ডা বসত। এখন রাত হলেই সেখানে ফুটবল খেলতে আসা মানুষজনের দেখা মেলে। খেলাধুলার কারণে আগের সেই পরিবেশ আর নেই।
দিনভর যার যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকা মানুষগুলো রাতের এক ঘণ্টায় একত্রিত হচ্ছেন, খেলছেন, গল্প করছেন। শরীরচর্চার পাশাপাশি কমছে মানসিক চাপ, বাড়ছে পারস্পরিক বন্ধন। আর সবচেয়ে বড় কথা, একটি মাঠকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সামাজিক পরিবেশ।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, আগে সন্ধ্যার পর মাঠ অন্ধকার থাকত। সন্তানদের মাঠে পাঠাতে ভয় লাগত। এখন মাঠে আলো থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারছে। এতে তারা মোবাইল ফোনে সময় না দিয়ে খেলাধুলায় সক্রিয় হচ্ছে।
তাদের এই উদ্যোগে সাধুবাদ জানিয়েছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক ও সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফরি বলেন, সাংবাদিকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে এখন মাঠটি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যে মাঠ একসময় রাতের অন্ধকারে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনায় আসত, সেই মাঠেই এখন আলো জ্বলছে, চলছে খেলাধুলা। মাঠজুড়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস আর খেলাধুলার শব্দে বদলে গেছে পরিবেশ।
তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে মাঠে রেলওয়ের পক্ষ থেকে বাতি লাগানো হয়েছে। মাঠে আলো জ্বালিয়ে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি গোলবার ও একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক নেতাদের দাবি, শুধু আলো স্থাপন করলেই হবে না। মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন