প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সাবেক (বরখাস্ত) সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী জড়িত বলে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার এই তথ্যটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রদান করেছেন।
বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করার জন্য টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় প্রদান করা হয়েছে। এটি টাস্কফোর্সের জন্য চতুর্থবারের মতো সময় বৃদ্ধি।
আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছে। টাস্কফোর্স এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সেদিন উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে, আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে, আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টাস্কফোর্সের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহারের সঙ্গে আলোচনা করে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন এবং তারা তদন্তের যাচাই-বাছাই করছেন। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরেন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল তার কার্যালয়ে বলেন, এই মামলার নতুন তদন্তভার গ্রহণ করে টাস্কফোর্স ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেছেন।
এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান যে দুদক এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত পাওয়া যায় এবং সেগুলো জব্দ করা হয়। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘জিয়াউল আহসানের সহকারী একজন র্যাব সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লিখিত প্রসিকিউটর জানান, প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। জোহার বক্তব্য সমর্থন করে পরবর্তী সময়ে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেন।
তারা জানান, মিডিয়াতে তাদের তদন্ত কাজ শেষ হলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করবেন।
এদিকে, পিবিআই তদন্ত দল দুজন আইনজীবী ও প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কী আলামত আছে তা জানতে চেয়েছেন এবং তারা একটি চিঠিও দিয়েছেন। এই চিঠির মাধ্যমে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন। আদালতের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদনের অংশটি পড়ে শুনিয়েছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন